ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাটের বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় চাষিরা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ০৪:১২:৩৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ০৪:১২:৩৬ অপরাহ্ন
পাটের বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় চাষিরা ছবি : সংগৃহীত
রাজবাড়ীতে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষকদের পরিচর্যায় জেলার পাঁচ উপজেলাজুড়ে পাটের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তাদের মতে, বাম্পার ফলন হলেও লাভ-লোকসান নির্ভর করবে পাটের বাজারদরের ওপর।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ৪৭ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে পাংশায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর, বালিয়াকান্দিতে ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর, কালুখালীতে ৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর, রাজবাড়ী সদরে ৯ হাজার ২৬০ হেক্টর এবং গোয়ালন্দে ৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলায় ৪৭ হাজার ২৭৬ হেক্টর, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪৬ হাজার ১৫৮ হেক্টর, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৪৯ হাজার ৫০ হেক্টর এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৪৯ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল।

সরেজমিনে বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে সবুজ পাট। কোথাও কৃষকরা পাট কাটছেন, কোথাও জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও জাগ থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটের দাম নিশ্চিত করা হলে আগামী বছরও পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মাশালিয়া বিলে পাট জাগ দেওয়ার কাজ করছিলেন কৃষক ইউনূস আলী। তিনি বলেন, এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাটের গাছ ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। ফলন খুব ভালো হয়েছে। এখন বাজারে ভালো দাম পেলে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব।

পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকার কৃষক শফিউল্লাহ খান বলেন, পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তবে দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কারণ এবার পেঁয়াজ চাষ করে ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন যদি পাটেরও ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে ভবিষ্যতে চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে হবে।

কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পাটচাষি কালিমুদ্দিন মণ্ডল বলেন, এবার পাটের ফলন নিয়ে আমরা অনেক খুশি। তবে উৎপাদন খরচ আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। পাট বিক্রির মৌসুমে কোনো অসাধু চক্র যেন কৃত্রিমভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম রসূল বলেন, গত বছর পাটের দাম ভালো থাকায় চলতি বছরে কৃষকেরা বেশি জমিতে পাট আবাদ করেছেন। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল তাপমাত্রার কারণে এবারও পাটের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে দামের বিষয়টি এখনই বলা কঠিন। দেশে কাঁচা পাটের ব্যবহার সীমিত। রপ্তানি না বাড়লে বাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে না।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের অনেক পাট এখনও কৃষকদের ঘরে মজুত রয়েছে। সাধারণত যে ফসলের দাম বেশি পাওয়া যায়, পরের বছর কৃষকেরা সেই ফসল বেশি আবাদ করেন। বিপরীতে দাম না পেলে ওই ফসলের আবাদে আগ্রহ কমে যায়। উৎপাদন খরচও যদি উঠে না আসে, তাহলে আগামী বছর পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে পাটের উৎপাদনও হ্রাস পেতে পারে।
 
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ